অরণ্য, ঝাড়গ্রাম- ৩রা এপ্রিল:
ভোটের মুখে ফের দুর্নীতির অভিযোগে তপ্ত ঝাড়গ্রাম। বিদায়ী বিধায়ক বিরবাহা হাঁসাদার বিরুদ্ধে ১১কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ। উন্নয়নের বিজ্ঞাপনের আড়ালে বালি মাফিয়াদের করিডোর তৈরির অভিযোগ। ঝাড়গ্রাম বিধানসভার নেপুরা অঞ্চলে প্রচারে গিয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সিপিআইএম প্রার্থী। অভিযোগ মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ দাপুটে ঠিকাদার কতৃক ১১ লক্ষ টাকার নয়ছয়। বিজেপিও এই একই অভিযোগ করে। বিরোধীদের এই মারাত্মক অভিযোগের মুখে রীতিমতো অস্বস্তিতে বিরবাহা। বিরবাহা কে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি সিপিআইএম এর অভিযোগের কোনো উত্তর দেবেন না বলে এড়িয়ে যান। ভোটের ময়দানে এবার সিপিআইএমের তুরুপের তাস 'কজওয়ে দুর্নীতি'। নেপুরা অঞ্চলে বুথে বুথে প্রচারের ফাঁকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বাম প্রার্থী।
তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, চিকুর ডাঙ্গা নিশ্চিন্তপুর কজওয়েতে অবৈধভাবে মাটি ও মোরাম ভরাটের নামে অন্তত ১১ লক্ষ টাকা লোপাট করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নয়, বরং শাসকদলের এক মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারের পকেট ভরাতেই একই জায়গায় বারবার ভুয়ো কাজের হিসেব দেখিয়ে তোলা হচ্ছে সরকারি টাকা। নেতা আর ঠিকাদারের পকেট ভরলেও, চরম মূল্য চোকাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অপরিকল্পিতভাবে এই মাটি ও মোরাম ভরাটের জেরে নদীর গতিপথ রুদ্ধ হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নদীর পাড়ে। তীব্র ভাঙনে ইতিমধ্যেই নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে এলাকার দুটি আস্ত গ্রাম। সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি যখন নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়, তখন শাসকদলের এই 'উন্নয়নের মডেল' নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছেন ভোটাররা। ঠিকাদারের দাপট, ব্লক প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং বালি মাফিয়াদের রমরমা, সব মিলিয়ে ঝাড়গ্রামের নেপুরা অঞ্চলের এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই এবার ভোটের ময়দানে ঝড় তুলতে চাইছে সিপিআইএম। শাসকদল তৃণমূল এই অভিযোগ এড়িয়ে গেলেও, ব্যালট বক্সে নদীর পাড় ভাঙনের এই ক্ষোভ আছড়ে পড়বে না তো? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
