পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু, দেহ ফিরলো বাড়িতে

 অরণ্য, ঝাড়গ্রাম-২২শে আগষ্ট:


পরিযায়ী শ্রমিকের ভিনরাজ্যে মৃত্যু , দেহ ফিরলো বাড়িতে।সরকারি তত্ত্বাবধানে বিমানে মৃতদেহ আনা হল কোলকাতায়। প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। মৃত শ্রমিকের  বাড়িতে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত ব্যবস্থাপনা করেন গোপীবল্লভপুরের  বিধায়ক ডাঃ খগেন্দ্র নাথ মাহাত। খবর পাওয়া মাত্রই রাজ্য সরকারের তরফে শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়ান তিনি।পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে তামিলনাড়ুতে কাজ গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতের নাম গৌরাঙ্গ রানা (৩০) ৷ 

তিনি ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ২নম্বর ব্লকের বড় আসনবনি গ্রামের বাসিন্দা।  বৃহস্পতিবার দিন স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি সপ্তাহে গোপীবল্লভপুরের বড় আসনবনী গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক গৌরাঙ্গ  চেন্নাইয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানীর কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে  গত রবিবার সন্ধ্যায় কোম্পানির কাজ সেরে রুমে ফেরার পথে রাস্তায় একটি বাইক আরোহী পিষে দিয়ে যায়। এর পরেই তামিলনাড়ু রাজ্যের চেঙ্গালপট্টু জেলার একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। কিন্তু মাথায় গুরুতর আঘাত থাকার কারণে সেখানের একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর  করা হয় গৌরাঙ্গ রানাকে। কিন্তু পরের দিন গত সোমবার মৃত্যু হয় ওই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের। পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসার গাফলতির জন্যই অকালে মৃত্যু হল ওই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের। জানা গেছে বারে বারে হেনস্থার মুখে পড়তে হয় তামিলনাড়ু রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের কাছে। মৃত্যুর পর দফায় দফায় টাকা খরচা হয়। এছাড়াও টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে। পদে পদে হেনস্তা হতে হয় বলে অভিযোগ। এমনকি ওই রাজ্যের সরকারি হাসপাতালেও পরিবার জানানোর পরেও সাধারণ বেডে ফেলে রাখা হয় এই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে। মূলত চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এদিকে মৃত্যুর খবর পৌঁছাতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামে। ভেঙে পড়ে পরিবার পরিজন। সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী ও ছোট্ট একটা মেয়ে। এছাড়াও রয়েছেন মা ও দাদা। কয়েক বছর আগে বাবার মৃত্যু হয়। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পেটের তাগিদে কাজে গেছিলো গৌরাঙ্গ রানা। গৌরাঙ্গর মৃত্যুর খবর পেয়েই তার পরিবারের সাথে গিয়ে দেখা করেন  বিধায়ক  খগেন্দ্র নাথ মাহাত। সবরকম সহায্যের আশ্বাস দেন। বুধবার গতকাল রাত্রি বিমানে আসার কথা ছিল বাংলায়। কিন্তু তামিলনাড়ু রাজ্যের প্রশাসনের হেনস্থার কারণে গতকাল ফেরা হলো না তার। বৃহস্পতিবার আটটা নাগাদ আকাশ পথে বিমান পৌঁছায় কলকাতা বিমানবন্দরে। এরপরই সেখানে প্রশাসনের এম্বুলেন্সে নিজের বাড়িতে পৌঁছায় নিথর দেহ। রাজ্য সরকারের নির্দেশে, সমস্ত রকম ভাবে সহযোগিতা করে  ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ প্রশাসন। বিধায়ক  খগেন্দ্রনাথ মাহাতো দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত কিছু তত্ত্বাবধান করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয় যাতে সরকারি সাহায্য পান তারা। তবে পরিবারের ও স্থানীয় মানুষের দাবি পরিযায়ী শ্রমিকের ওই পরিবারের এক মাত্র ভরসা ছিলেন গৌরাঙ্গ, ফলে ওনার স্ত্রীর ও একটি ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।


Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.